Saint Martin's Island
ছবিসুত্রঃ উইকিপিডিয়া

সেন্টমার্টিন

দ্বীগন্ত বিস্তৃত নীল জলরাশি আর খোলা আকাশ, গাংচিল গুলো যেন মাঝ আকাশে সুতো ছেঁড়া ঘুড়ি। একটু এগোলেই পটে আঁকা ছবির মতো, নীল জলে মাঝে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে ছোট্ট একটু ভূখণ্ড।
বলছিলাম বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের ভূ-সীমানা, বাংলার একমাত্র প্রবাল দ্বীপ, সেন্টমার্টিনের কথা।
কক্সবাজার জেলা শহর থেকে ১২০ কিলোমিটার, টেকনাফ হতে ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং মিয়ানমার উপকূল হতে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে, বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্বাংশে, নাফ নদীর মোহনায়। মাত্র ৮ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই দ্বীপ টি, আকাশে ভেসে থাকা এক টুকরো মেঘের মতোই যেন নীল সমুদ্রের বুকে ভেসে আছে।

অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত এ প্রবাল দ্বীপটি বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন স্থান গুলোর মধ্যে একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র।

অসীম আকাশ আর দিগন্ত বিস্তৃত স্বচ্ছ নীল জলের মিতালি, সারি সারি নারিকেল আর কেওড়ার ঝোপ ভ্রমণ পিয়াসী মানুষ দের, দুর্নিবার এক আকর্ষণে টেনে নিয়ে যায় বার বার।

ইতিহাস

আরবীয় বণিকরা চট্টগ্রাম থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় যাতায়াতের সময় এই দ্বীপটিকে বিশ্রামের জন্য ব্যবহার করত। এরাই প্রথম এই দ্বীপটির নামকরণ করেছিল জিঞ্জিরা। বাঙালি এবং রাখাইন সম্প্রদায়ের ১৩টি মৎস্যজীবী পরিবার ১৮৯০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে এই দ্বীপের উত্তরাংশে বসতি স্থাপন করে। যতটুকু জানা যায়, এরাই প্রথম এই দ্বীপের অধিবাসী। কালক্রমে এই দ্বীপটি বাঙালি অধ্যুষিত এলাকায় পরিণত হয়। সম্ভবত বাঙালি জেলেরা জলকষ্ট এবং ক্লান্তি দূরীকরণের অবলম্বন হিসাবে প্রচুর পরিমাণ নারকেল গাছ এই দ্বীপে রোপণ করেছিল। কালক্রমে, এটি পরিণত হয় ‘নারকেল গাছ প্রধান’ দ্বীপে, এবং পরে অধিবাসীরাই দ্বীপের উত্তরাংশকে “নারিকেল জিঞ্জিরা” নামে অভিহিত করে। ১৯০০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে ব্রিটিশ ভূ-জরিপে এই দ্বীপকে ব্রিটিশ-ভারতের অংশ হিসাবে অধিগ্রহণ করে এবং স্থানীয় নামের পরিবর্তে একজন খ্রিষ্টান সেন্ট মার্টিনের নামানুসারে নতুন নামকরণ করে। এবং পরবর্তীতে ধীরে ধীরে এই অঞ্চলের বাইরের মানুষের কাছে, দ্বীপটি “সেন্ট মার্টিন” নামেই পরিচিতি লাভ করে। তবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ বখতিয়ার উদ্দিন-এর মতে, ১৯০০ খ্রিষ্টাব্দে দ্বীপটিকে যখন ব্রিটিশ ভারতের অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তখন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মার্টিনের নাম অনুসারে দ্বীপটির নামকরণ করা হয়।

জনশ্রুতি আছে, বৈরী আবহাওয়ার কারণে আরবীয় বণিকদের দারুচিনি বোঝাই একটি বাণিজ্যিক জাহাজ বিশাল এক শিলার সাথে ধাক্কা খেয়ে ভেঙে পড়ে, এবং জাহাজে থাকা দারুচিনি পানিতে ভেসে এই দ্বিপের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। যার ফলশ্রুতিতে এই দ্বিপের আরও একটি নতুন নাম হয় “দারুচিনির দ্বিপ”।

প্রখ্যাত লেখক হুমায়ূন আহমেদের লেখা “দারুচিনির দ্বিপ” সিনেমার সুটিং এখানেই হয়েছিল।

ভৌগোলিক আয়তন

উত্তর-দক্ষিণে লম্বা এ দ্বীপের তিন দিকের ভিত শিলা, যা জোয়ারের সময় তলিয়ে যায় এবং ভাটার সময় জেগে ওঠে। এগুলোকে ধরলে প্রায় ৮ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এ দ্বীপের আয়তন বেড়ে হবে প্রায় ১০-১৫ বর্গ কিলোমিটার। এ দ্বীপটি উত্তর ও দক্ষিণে প্রায় ৫.৬৩ কিলোমিটার লম্বা। দ্বীপের প্রস্থ কোথাও ৭০০ মিটার আবার কোথাও ২০০ মিটার। দ্বীপটির পূর্ব, দক্ষিণ ও পশ্চিম দিকে সাগরের অনেক দূর পর্যন্ত অগণিত শিলা স্তূপ আছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের গড় উচ্চতা ৩.৬ মিটার। সেন্ট মার্টিনের পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিক জুড়ে রয়েছে প্রায় ১০-১৫ কিলোমিটার প্রবাল প্রাচীর।

সেন্টমার্টিন দ্বীপকে সাধারণত তিনটি অংশে বিভক্ত করা হয়।

  1. উত্তর পাড়া : উত্তর অংশকে বলা হয় নারিকেল জিনজিরা বা উত্তর পাড়া।
  2. দক্ষিণ পাড়া : দক্ষিণাঞ্চলীয় অংশকে বলা হয় দক্ষিণ পাড়া। এবং
  3. গলাচিপা : দক্ষিণ পাড়ার সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বিস্তৃত একটি তুলনা মূলক সংকীর্ণ এলাকা এবং সংকীর্ণ এ অংশটি গলাচিপা নামে পরিচিত।

দ্বীপের দক্ষিণে ১০০ থেকে ৫০০ বর্গমিটার আয়তনের ছোট দ্বীপ আছে যা স্থানীয়ভাবে সিরাদিয়া বা ছেঁড়া দ্বীপ নামে পরিচিত। এটি একটি জনশূন্য দ্বীপ। ভাটার সময় এই দ্বীপে হেঁটে যাওয়া যায়। তবে জোয়ারের সময় নৌকা প্রয়োজন হয়।

সেন্টমার্টিন দ্বীপের বিধি নিষেধ

পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (Bangladesh Environment Conservation Act, 1995)-এর ১২ ধারা অনুযায়ী, সর্ব প্রথম বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৯ সালে সেন্টমার্টিন দ্বীপ ও এর আশেপাশের এলাকাকে ‘পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন এলাকা’ বা ECA (Ecologically Critical Area) হিসেবে ঘোষণা করে। পরবর্তীতে বিভিন্ন গবেষণা, এবং পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিবেদন, এবং রিট আবেদনের ভিত্তিতে ২০১৯ সালে সেন্টমার্টিন রক্ষায়, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ স্বপ্রণোদিতহয়ে সরকারকে বেশ কিছু নির্দেশনা দেন ।

এই পদক্ষেপের ধারাবাহিকতায় এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন ২০১২ অনুযায়ী, গত ০৮ জানুয়ারি ২০২২ তারিখে পরিবেশ মন্ত্রণালয় দ্বীপ সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের ১,৭৪৩ বর্গ কিলোমিটার এলাকাকে সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা (Marine Protected Area) হিসেবে ঘোষণা করে।

বছরের পর বছর ধরে পরিবেশগত অবক্ষয় ,অনিয়ন্ত্রিত পর্যটক , অপরিকল্পিত হোটেল নির্মাণ, এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ঘাটতির কারণে দ্বীপের প্রবাল এবং সামুদ্রিক জীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দেশের একমাত্র প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপ সেন্টমার্টিনের ভঙ্গুর পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় (Ministry of Environment, Forest and Climate Change) এবং অধীনে থাকা পরিবেশ অধিদপ্তর (Department of Environment – DoE) দ্বীপটিকে ‘পরিবেশগত সংকটাপন্ন’ এলাকা ঘোষণা করা সহ নানান সময় বিভিন্ন গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ বা প্রজ্ঞাপন জারি করে । এবং ২৩ মে ২০২৩ তারিখে ‘সেন্টমার্টিন দ্বীপের পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটন নির্দেশিকা, ২০২৩” (S.R.O No. 165-Law/2023) ” জারি করে -এর আলোকে নতুন করে কিছু বিধিনিষেধ (১২টি) আরোপ করে । এবং আরোপিত এ-সকল বিধিনিষেধ সকল পর্যটককে অবশ্যই তা মেনে চলতে হবে। এই নির্দেশিকাগুলি ২২ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা হয় এবং কঠোর ভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দেয়া হয় । এটিই বর্তমানে কার্যকর থাকা সকল কঠোর বিধিনিষেধের মূল ভিত্তি । এসব বিধিনিষেধের লঙ্ঘন আইনত দণ্ডনীয়অপরাধ।

বিধি ও নিষেধ সমূহ:

  1. বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া সেন্টমার্টিন দ্বীপে কোনো নৌযান চলাচলের অনুমতি দিতে পারবে না।
  2. পর্যটকদের অবশ্যই বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে টিকিট ক্রয় করতে হবে, যেখানে প্রতিটি টিকিটে Travel Pass এবং QR Code সংযুক্ত থাকবে। QR Code ছাড়া টিকিট নকল হিসেবে গণ্য হবে।
  3. প্রতিদিন দ্বীপে গড়ে ২০০০ বেশি পর্যটক ভ্রমণ করতে পারবেন না।
  4. দ্বীপে পর্যটকদের জন্য ভ্রমণের সময়সূচি এবং পর্যটক উপস্থিতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
  5. নভেম্বর মাস জুড়ে পর্যটকরা শুধুমাত্র দিনের বেলায় ভ্রমণ করতে পারবেন তবে কোন ভাবেই রাত্রিযাপন করতে পারবেন না।
  6. ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাস জুড়ে পর্যটকদের জন্য রাত্রিযাপনের অনুমতি থাকবে।
  7. ফেব্রুয়ারি মাসে দ্বীপে পর্যটক যাতায়াত সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে।
  8. সেন্টমার্টিনের প্রাকৃতিক পরিবেশগত ভারসাম্য অক্ষুণ্ন রাখতে দ্বীপে রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, শব্দ সৃষ্টি বা বারবিকিউ পার্টি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
  9. কেয়া বনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ বা ক্রয়-বিক্রয়, সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়া, শামুক-ঝিনুক ও অন্যান্য জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
  10. এছাড়া সৈকতে মোটরসাইকেল, সীবাইকসহ যেকোনো মোটরচালিত যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
  11. নিষিদ্ধ পলিথিন বহন করা যাবে না এবং একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিকের মোড়ক যেমন চিপসের প্যাকেট, প্লাস্টিক চামচ, স্ট্র, সাবান ও শ্যাম্পুর মিনিপ্যাক, ৫০০ ও ১০০০ মিলিলিটারের প্লাস্টিক বোতল ইত্যাদি বহন নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।
  12. পর্যটকদের নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

১৯৮০ সালে দ্বীপে ১৪১ প্রজাতির প্রবাল ছিল, যা ২০১৬ সালের মধ্যে কমে ৪১-এ নেমে আসে। দ্বীপের পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষা, সামুদ্রিক কাছিম এবং অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীর প্রজনন ক্ষেত্র রক্ষা, সেন্টমার্টিনকে পরিবেশবান্ধব পর্যটনের একটি মডেল হিসেবে গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যতের জন্য এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সংরক্ষণ করার জন্যই এই পদক্ষেপ গুলো নেওয়া হয়েছে।

স্কুবা ডাইভিং ও স্নোরকেলিং

পৃথিবী ব্যাপী এডভেঞ্চার প্রেমীরা স্কুবা ডাইভিং কে বলে থাকে ‘One of the most exciting adventures in the world’। একই সাথে, সমুদ্র তলদেশে রহস্যময় জগতের অপার্থিব সৌন্দর্য অবলোকন এবং নিজের হাতে সেই সৌন্দর্যকে ছুঁয়ে দেখা, একমাত্র স্কুবা ডাইভিং এর মাধ্যমেই সম্ভব।
বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে স্কুবা ডাইভিং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে উঠলেও সেন্টমার্টিন হচ্ছে এডভেঞ্চার প্রেমীদের জন্য তীর্থ স্থান। সেন্টমার্টিনের নীল স্বচ্ছ জলরাশি এবং এর নিচের বহু বর্ণের জলজ উদ্ভিদ এবং বিচিত্র সব জীবন্ত কোরালের প্রাচীর এবং নানান রকমের জলজ প্রাণী এডভেঞ্চারার দের প্রধান আকর্ষণ । কেবল মাত্র অপরূপ এই সৌন্দর্যটুকু উপভোগ করার লোভে প্রতিবছর হাজার হাজার পর্যটক বারে বারে ফিরে আসে প্রবাল সমৃদ্ধ এই দ্বীপে।
সেন্টমার্টিনের সৈকত থেকে মাত্র কয়েকশ মিটার একটু দূরেই সাগরে নিচে যে অপরূপ এক জগৎ আছে, সেটা অজানাই থেকে যায় অনেক পর্যটকদের কাছে। ট্যাংক ভর্তি কৃত্রিম অক্সিজেন নিয়ে যখন আপনি সাগরের তলদেশে যাবেন, তখন বিভিন্ন প্রজাতির মাছেদের সাথে সাঁতার কাটতে কাটতে আপনি প্রতিটি মুহূর্ত আলাদাভাবে অনুভব করতে পারবেন। সাগর তলের এই অদ্ভুত সুন্দর জগতের প্রেমে পড়ে যাবেন। মায়াময় এই জগৎ ছেড়ে আসতে ইচ্ছে করবে না এক মুহূর্তের জন্য । সেন্টমার্টিনে স্কুবা ডাইভিং এবং স্নোরকেলিং করা যায় প্রতি বছরের নভেম্বর থেকে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত।

সেন্টমার্টিনে স্কুবা ডাইভিং এবং স্নোরকেলিং এর জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যাদি:
প্রতিষ্ঠান: স্কুবা টেক বিডি (Scuba Tech BD)

ঠিকানা: পুর্ব বিচ, কোষ্ট গার্ড রোড, টুরিষ্ট পুলিশ ষ্টেশনের পাশে, সেন্টমার্টিন, বাংলাদেশ (East Beach,Coast Guard Road, (Next to the tourist police station), Saint Martin’s Island, Bangladesh)।

মোবাইল: +8801318-374003

ই-মেইল: contact@scubatechbd.com , scubatechbd@gmail.com

প্যাকেজ সমূহ:

  1. Try Diving – 4,000 tk (20 minutes of main diving time during a 2-hour session, which starts from gearing up to gearing down and includes an instructor and all the necessary gear.)
  2. Snorkeling – Shore 2,000 tk & Boat 4,000 tk.
  3. Discover SCUBA Diving (DSD) – 14,000 tk.
  4. Swimming – 30,000 tk.
  5. Bubblemaker – 6,000 tk.
  6. Under water Video – 2000 tk (with a camera and videographer).
  7. Only Equipment’s – 2000 tk (1 full Oxygen tank + 1 set of diving gear + a companion. This is only available to individuals who have a Scuba Diving license).

সেন্টমার্টিন যাওয়ার উপায়

সেন্টমার্টিন বঙ্গপসাগরের মাঝে বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন একটি দ্বীপ হওয়ার কারণে, এ দ্বীপে যাওয়ার সরাসরি কোনো রুট নেই। এ দ্বীপে যাওয়ার একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে কক্সবাজার নুনিয়াছড়া জেটি ঘাট থেকে আনুমানিক ১২৫ থেকে ১৫০ কিলোমিটার (প্রায় ৭৭ থেকে ৯৩ মাইল) অথবা টেকনাফ দমদমিয়া জেটি ঘাট (Damdamia Jetty Ghat) থেকে ৯ থেকে ১৪ কিলোমিটার (প্রায় ৬ থেকে ৯ মাইল) নৌ পথে।
বর্তমানে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে নাফ নদীতে নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকায় টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনগামী যাত্রীবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। এই কারণে পর্যটকদের এখন কক্সবাজার থেকেই জাহাজে চড়ে সেন্টমার্টিন যেতে হচ্ছে। বর্তমানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় (Ministry of Environment, Forest and Climate Change) এখন পর্যন্ত কর্ণফুলি শিপ বিল্ডার্স লিমিটেড (Karnaphuli Ship Builders Ltd) দ্বারা পরিচালিত ২ টি জাহাজ কে এম ভি কর্ণফুলি এক্সপ্রেস এবং এম ভি বারো আউলিয়া কে কক্সবাজার সেন্টমার্টিন রুটে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে।

  1. এম ভি কর্ণফুলি এক্সপ্রেস: এই জাহাজটি বিলাসবহুল ভিআইপি কেবিনের সুবিধার পাশাপাশি রয়েছে কনফারেন্স রুম, এবং ডাইনিং স্পেসসহ যাত্রীদের ভ্রমণে জন্য বিভিন্ন আরামদায়ক সু-ব্যবস্থা।
  2. এম ভি বার আউলিয়া: এটিও এই একই কোম্পানির জাহাজ যা পর্যটকদের জন্য কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন পর্যন্ত ভ্রমণ পরিষেবা দিয়ে থাকে।

সরাসরি এদের ওয়েব সাইটের মাধ্যমে টিকিট বুকিং দিতে হয়। এবং বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত Travel Pass সাধারণত এই টিকিটের সাথেই থাকে।

সেন্টমার্টিন জাহাজ ভাড়া, টিকেট বুকিং ও অন্যান্য তথ্য (২০২৫)

এম ভি কর্ণফুলি এক্সপ্রেস :

শ্রেণী (Class) ডেক/অবস্থান সিঙ্গেল ট্রিপ (৳) রাউন্ড ট্রিপ (৳) তথ্য ও সুবিধা

ইকোনমি সিট (নন-এসি)

Lavender (VIP Seats) 1st Floor ১,৮০০৳ ৩,৫০০৳ সিট: ৭০, ওপেন ডেক এক্সেস
Marigold (VIP Seats) 1st Floor ১,৮০০৳ ৩,৫০০৳ সিট: ২৯৬, প্রিমিয়াম ফুড সার্ভিস

বিজনেস/লাক্সারি চেয়ার (এসি)

Open Deck Top of the ship ২,১০০ ৳ ২,১০০ ৳ সিট: ৮০, ওপেন ডেক এক্সেস
Gladiolus (VIP Seats) 2nd Floor ২,৬০০৳ ৫,০০০ ৳ সিট: ১০৮, প্রিমিয়াম ফুড সার্ভিস
Lilac Lounge (VIP Seats) 2nd Floor ২,৭০০৳ ৫,৩০০৳ সিট: ২৪, প্রিমিয়াম ফুড সার্ভিস
Chrysanthemum Lounge (VIP Seats) 3rd Floor ২,৯০০৳ ৫,৬০০৳ সিট: ২৪, প্রিমিয়াম ফুড সার্ভিস

কেবিন (এসি)

Single Cabin (০১ জন) ৩,৩০০৳ ৬,৫০০৳ সিট: ০১, পুরো জাহাজে এক্সেস, সার্ভিস
Twin Cabin (০২ জন) ৭,০০০৳ ১৩,০০০৳ সিট: ০৬, সার্ভিস
VIP Cabin (০২ জন) ৮,৫০০৳ ১৬,০০০৳ সিট: ০৪, সার্ভিস
VVIP Cabin (০২ জন) ১০,৫০০৳ ২০,০০০৳ সিট: ০৩, সার্ভিস

এম ভি বারো আউলিয়া :

শ্রেণী (Class) ডেক/অবস্থান ওয়ান-ওয়ে (৳) রাউন্ড ট্রিপ (৳) তথ্য ও সুবিধা

ইকোনমি সিট (নন-এসি)

Main Deck Seat 1st Forward ১,৮০০ ৳ ৩,৫০০৳ টোটাল সিট: ৬৬
Sun Deck Seat 3rd Forward ১,৮০০৳ ৩,৫০০৳ টোটাল সিট: ১৬০

বিজনেস/লাক্সারি চেয়ার (এসি)

Riviera Business Chair 1st Backward ২,১০০৳ ৪,০০০৳ টোটাল সিট: ১১৪
Panorama Business Chair 1st Middle ২,১০০ ৳ ৪,০০০৳ টোটাল সিট: ২৭০
Mozarat Chair 2nd Middle ২,২০০৳ ৪,৩০০৳ টোটাল সিট: ৫৪

কেবিন (এসি)

Bunker Bed (০২ জন) 2nd Forward ৪,১০০৳ ৮,০০০৳ টোটাল সিট: ০২, কমন ওয়াশরুম
Delux Cabin (০২ জন) 2nd Middle ৭,০০০৳ ১৩,০০০৳ টোটাল কেবিন: ১২
Family Bunker Cabin (০৪ জন) 2nd Forward ৮,৫০০৳ ১৬,০০০৳ টোটাল কেবিন: ০৮
VIP Cabin (০২ জন) 3rd Backward ৮,৫০০৳ ১৬,০০০৳ টোটাল কেবিন: ০৩, কমন ওয়াশরুম
VVIP Cabin (০২ জন) 3rd Backward ১০,৫০০৳ ২০,০০০৳ টোটাল কেবিন: ০২, অ্যাটাচড ওয়াশরুম

এম ভি কর্ণফুলি এক্সপ্রেস ও এম ভি বার আউলিয়া জাহাজ দুটিই কর্ণফুলি শিপ বিল্ডার্স লিমিটেড (Karnaphuli Ship Builders Ltd) দ্বারা পরিচালিত হয়। এই দুটি জাহাজই কক্সবাজার ও সেন্টমার্টিনের মধ্যে চলাচলকারী জনপ্রিয় নৌযান।

  • এম ভি কর্ণফুলি এক্সপ্রেস: এই জাহাজটি বিলাসবহুল সুবিধা যেমন ভিআইপি কেবিন, কনফারেন্স রুম, এবং ডাইনিং স্পেসসহ যাত্রীদের জন্য আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করে।
  • এম ভি বার আউলিয়া: এটিও একই কোম্পানির একটি জাহাজ এবং পর্যটকদের জন্য কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন পর্যন্ত একটি জনপ্রিয় বিকল্প।

কক্সবাজার বা টেকনাফে বাংলাদেশের সকল বিভাগ থেকেই প্রচলিত প্রায় সকল যাতায়াত মাধ্যমেই অর্থাৎ আকাশ, সড়ক এবং রেল পথে যাওয়া যায়।

কক্সবাজার থেকে টেকনাফ

বাস (সবচেয়ে অর্থনৈতিক সাশ্রয়ী):
কক্সবাজার থেকে টেকনাফের উদ্দেশ্যে নিয়মিত লোকাল এবং টুরিস্ট বাস সার্ভিস চলাচল করে।

রুট:

  • কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে বাস, সিএনজি বা প্রাইভেট কারে করে টেকনাফ স্থলবন্দরে বা বাসস্ট্যান্ডে যেতে হবে। জনপ্রতি প্রায় ১৪০ টাকা (পরিবর্তনশীল)।
  • চট্টগ্রাম শহরের সিনেমা প্যালেস থেকে রাত ১২টায় সৌদিয়া এবং এস আলম বাস ছাড়ে টেকনাফের উদ্দ্যেশ্যে।
  • দামপাড়া এবং গরিবুল্লাহ শাহ্ মাজার থেকে কিছু বাস চট্টগ্রাম থেকে টেকনাফ রুটে নিয়মিত চলাচল করে। এই রুটে বাসে যেতে খরচ পড়বে ৬০০-১২০০ টাকা।

দূরত্ব: প্রায় ৮০ কিলোমিটার।

সময়: প্রায় ২ থেকে ২.৫ ঘণ্টা।

ধারণ ক্ষমতা: প্রয়োজন অনুসারে।

ভাড়া: ভাড়া ১৪০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা।

চান্দের গাড়ি বা জিপ (Chander Gari):
চান্দের গাড়ি খোলা ছাদের জিপ, এটি স্থানীয়ভাবে খুব জনপ্রিয় বাহন।

রুট:

  • সুগন্ধা পয়েন্টের কাছে এগুলো ভাড়া পাওয়া যায়। কক্সবাজার থেকে টেকনাফ যাওয়ার জন্য চান্দের গাড়িতে মেরিন ড্রাইভের দৃশ্য উপভোগ করার জন্য বেশ জনপ্রিয়।

দূরত্ব: প্রায় ৮০ কিলোমিটার।
সময়: প্রায় ২ ঘণ্টা।
ধারণ ক্ষমতা: সাধারণত ১০-১২ জনের জন্য।
ভাড়া: রিজার্ভ ভাড়া ৬,০০০ থেকে ৭,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে (মৌসুম অনুযায়ী পরিবর্তন হয়)।

সিএনজি বা ট্যাক্সি:
আপনি চাইলে সিএনজি করে টেকনাফ যেতে পারেন।

রুট:

  • সুবিধা অনুসারে।

দূরত্ব: প্রায় ৮০ কিলোমিটার।

সময়: প্রায় ২.৩০ থেকে ৩ ঘণ্টা।

ধারণ ক্ষমতা: সাধারণত ৩ জনের জন্য।

ভাড়া: রিজার্ভ ভাড়া সিএনজি রিজার্ভ করলে প্রায় ৫০০-১০০০ টাকা লাগতে পারে। (মৌসুম অনুযায়ী পরিবর্তন হয়)।

ভ্রমণ টিপস:

  • কক্সবাজারের কলাতলী সৈকত থেকে শুরু হয়ে টেকনাফ পর্যন্ত ৮০ কিলোমিটার বিস্তৃত বিশ্বের দীর্ঘতম মেরিনড্রাইভে চান্দের গাড়ি বা খোলা জিপে করেই সবথেকে বেশি উপভোগ করা যায়। এতে সময় লাগে প্রায় ৫ ঘণ্টা।
  • সিএনজি বা চান্দের গাড়ি রিজার্ভ বা ভাড়া করার সময় ভাড়া এবং টুরিস্ট পয়েন্ট গুলো ভিজিট প্রসঙ্গ অবশ্যই আগে থেকেই নির্ধারণ করে নিতে হবে।
  • শীতের মৌসুমে কক্সবাজার বা টেকনাফে ভ্রমণের সময় চান্দের গাড়ি বা খোলা জিপে কোন প্রকার টুর প্ল্যান না করাই ভালো।

বিঃদ্রঃ- বর্তমানে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে নাফ নদীতে নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকায় টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনগামী যাত্রীবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। এই কারণে পর্যটকদের এখন কক্সবাজার থেকেই জাহাজে চড়ে সেন্টমার্টিন যেতে হচ্ছে।

চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার

সড়ক পথে (সবচেয়ে অর্থনৈতিক সাশ্রয়ী):
কক্সবাজার থেকে টেকনাফের উদ্দেশ্যে নিয়মিত লোকাল এবং টুরিস্ট বাস সার্ভিস চলাচল করে।

 রুট:

  • চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল, চান্দগাঁও কাউন্টার, নতুন ব্রিজ কাউন্টার এবং সিনেমা প্যালেস এলাকাথেকে নিয়মিত বিরতিতে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে এস আলম, মারসা ট্রান্সপোর্ট, দেশ ট্রাভেলস, হানিফ এন্টারপ্রাইজ ইত্যাদি বাস ছেড়ে যায়।।কক্সবাজার বাস টার্মিনাল বা বিভিন্ন পয়েন্টে বাস থামলেও সেন্টমার্টিন ভ্রমণের উদ্যেশে যে সকল যাত্রীরা কক্সবাজার আসেন তারা সাধারণত কক্সবাজার ডলফিন মোড় কেই বেছে নেন শেষ স্টপ হিসেবে। সেখান থেকে সবাই অটো রিকশা বা সি এন জি করে নুনিয়া ছড়া BIWTA জেটি ঘাট
    -এ গিয়ে জাহাজে ওঠে। 

দূরত্ব: ১৪৬ কিলোমিটার।

সময়: প্রায় ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা।

ধারণ ক্ষমতা: প্রয়োজন অনুসারে।

ভাড়া: নন-এসি বাসের ভাড়া সাধারণত ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং এসি বাসের ভাড়া ৮৫০ টাকা বা তার বেশি হতে পারে (পরিবর্তনশীল)।

রেলপথে (দ্রুত ও আরামদায়ক):

গত ১১ নভেম্বর, ২০২৩ তারিখে কক্সবাজারের ঝিলংজায় নির্মিত আইকনিক রেলওয়ে স্টেশনটি উদ্‌বোধন হওয়ার পরেই ১ ডিসেম্বর, ২০২৩ থেকে এ পথে ট্রেন চলা শুরু হয়। ট্রেন চলার পথে দুই পাশে দিগন্ত বিস্তৃত সবুজে ঘেরা পাহাড়, সাঙ্গু নদী, সংরক্ষিত বনাঞ্চল, বন্যপ্রাণী চলাচলের আন্ডারপাস (underpass) এবং ওভারপাস (overpass) -এর অপরূপ দৃশ্য যাত্রীদের মুগ্ধ করে। সংরক্ষিত বনের মধ্য দিয়ে চলে গেছে এ ট্রেন লাইন 

রুট:

  • কক্সবাজার এক্সপ্রেস এবং পর্যটক এক্সপ্রেস নামের দুটি আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ট্রেন ঢাকা থেকে চট্টগ্রামকে সংযুক্ত করে এই রুটে চলে।
  • সৈকত এক্সপ্রেস ও প্রবাল এক্সপ্রেস নামের দুটি এক্সপ্রেস ট্রেন সুধু মাত্র চট্টগ্রাম রুটে চলা-চল করে। (Sholashohor Rail Station, Janali Hat Railway Station, Patiya Railway Station, Dohazari , Satkania, Harbang, Chakaria, Dulahazara , Ramu)

দূরত্ব: প্রায় ১৪৬ কিলোমিটার।

যাতায়াতের সময়: প্রায় ৩.৩৫ ঘণ্টা।

ধারণ ক্ষমতা: টিকিটের প্রাপ্যতা বা প্রয়োজন অনুসারে।

ভাড়া: আনুমানিক ভাড়া (জনপ্রতি) শোভন চেয়ার ২৫০ টাকা , স্নিগ্ধা (AC Chair) ৪৭০ টাকা, এসি কেবিন ৫৬৫ টাকা।

ভ্রমণের সময়:

  • রুট ১- (কক্সবাজার ও পর্যটক এক্সপ্রেস) ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে কক্স বাজারের উদ্দেশে 6.10 AM ও 11.00 PM, এবং কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম হয় ঢাকার উদ্দেশে 12.30 PM ও 7.45 PM এ ছেড়ে যায়।
  • রুট ২- (সৈকত ও প্রবাল এক্সপ্রেস) চট্টগ্রাম থেকে কক্স বাজারের উদ্দেশে 5.50 AM ও 3.50 PM, এবং কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে 10.00 AM ও 8.00 PM এ ছেড়ে যায়।

টিকিট: অনলাইন

আকাশ পথে:

ডমেস্টিক (অভ্যন্তরীণ) এয়ারলাইন্সগুলোর মধ্যে সাধারণত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স এবং নভোএয়ার —এই তিনটি সংস্থা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করে ।
রুট:1. চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (CGP) থেকে কক্সবাজার বিমানবন্দর (CXB)
• দূরত্ব: প্রায় ৯০ কিলোমিটার।

যাতায়াতের সময়: প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট।

ধারণ ক্ষমতা: টিকিটের প্রাপ্যতা বা প্রয়োজন অনুসারে ।

ভাড়া: ভাড়া (জনপ্রতি) ৪৫০০৳ থেকে শুরু করে ১৬০০০৳ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে (মৌসুম অনুযায়ী পরিবর্তন হয়)।

ভ্রমণের সময়: সকালে ও বিকালে (প্রয়োজন অনুসারে।)

টিকিট: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স এবং নভোএয়ার।

ভ্রমণ টিপস:

  • বুকিং: বিমানে টিকিট (৬ থেকে ৮ সপ্তাহ) আগে থেকেই অনলাইন-এ বা এজেন্টের মাধ্যমে বুকিং দিয়ে রাখা উচিত। বিমানের টিকিটের দাম ভ্রমণের দিন ও টিকিট ক্রয়ের দিনের মধ্যবর্তী ব্যবধানের উপরে নির্ভর করে থাকে।
  • বোর্ডিং: ডিপার্চার টাইমে কমপক্ষে ১ ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে পৌঁছাতে হবে। ডমেস্টিক ফ্লাইট হওয়ায় NID কার্ড দিয়েই বোর্ডিং করা যায়।
  • লাগেজ: সাধারণত প্রতিটি টিকিটে বা প্যাসেঞ্জার হাতে ৭ কেজি এবং চেক-ইন ব্যাগেজে ২০ কেজি বিনামূল্যে বহন করার অনুমতি পেয়ে থাকে।

খাগড়াছড়ি থেকে কক্সবাজার

বাস (সবচেয়ে অর্থনৈতিক সাশ্রয়ী):
খাগড়াছড়ি থেকে কক্সবাজার যাওয়ার একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে সড়ক পথ।

রুট:

  • সরাসরি: খাগড়াছড়ি কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল (Khagrachhari Central Bus Terminal) বা শহরের শাপলা চত্বরের আশেপাশের কাউন্টার থেকে কক্সবাজার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল বা কলাতলী এলাকার নির্দিষ্ট বাস কাউন্টারে অথবা কক্সবাজার ডলফিন মোরে। কক্সবাজার বাস টার্মিনাল বা বিভিন্ন পয়েন্টে বাস থামলেও সেন্টমার্টিন ভ্রমণের উদ্যেশে যে সকল যাত্রীরা কক্সবাজার আসেন তারা সাধারণত কক্সবাজার ডলফিন মোড় কেই বেছে নেন শেষ স্টপ হিসেবে। সেখান থেকে সবাই অটো রিকশা বা সি এন জি করে নুনিয়া ছড়া BIWTA জেটি ঘাট -এ গিয়ে জাহাজে ওঠে। 
  • ভেঙে ভেঙে: খাগড়াছড়ি কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে (চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে) চট্টগ্রাম বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল বা সিটি গেট অথবা জিইসি মোড়ের কাছাকাছি কোনো বাস স্টপেজ পর্যন্ত এবং পরে, চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল, চান্দগাঁও কাউন্টার, নতুন ব্রিজ কাউন্টার এবং সিনেমা প্যালেস এলাকা থেকে নিয়মিত বিরতিতে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে এস আলম, মারসা ট্রান্সপোর্ট, দেশ ট্রাভেলস, হানিফ এন্টারপ্রাইজ ইত্যাদি বাস ছেড়ে যায়।

যাতায়াতের সময়: সাধারণত প্রায় ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় প্রয়োজন হয় (ট্র্যাফিক বা যানজট এবং রুটের উপর নির্ভর করে)।

ধারণ ক্ষমতা: টিকিটের প্রাপ্যতা বা প্রয়োজন অনুসারে ।

ভাড়া: ভাড়া (জনপ্রতি) ৬০০৳ থেকে শুরু করে ১০০০৳ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে (আসন ও বাসের প্রকার ভেদে অনুসারে)।

দূরত্ব: প্রায় ২৫০ কিলোমিটার।

ভ্রমণের সময়: 1

  • রুট ১: সাধারণত রাতে ৮:০০ থেকে ১০:০০ টার মধ্যে বাসগুলো ছেড়ে যায় এবং কক্সবাজারে পরের দিন ভোর ৪:০০ টা থেকে ৬:০০ টার মধ্যে।2.
  • রুট ২: খাগড়াছড়ি থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে সকাল ৬:৩০ থেকে সন্ধ্যা ৬:০০ পর্যন্ত প্রায় প্রতি ৩০ মিনিট বা ১ ঘণ্টা অন্তর বাস পাওয়া যায়।চট্টগ্রাম বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল, নতুন ব্রিজ টার্মিনাল বা সিনেমা প্যালেস এলাকা থেকে কক্সবাজার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল বা কলাতলী এলাকার নির্দিষ্ট কাউন্টার অথবা কক্সবাজার ডলফিন মোরে

টিকিট: খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার বাস কাউন্টার।

প্রাইভেট কার বা মাইক্রোবাস:
বাস ছাড়া খাগড়াছড়ি থেকে কক্সবাজার যাওয়ার বিকল্প হলো মাইক্রোবাস বা প্রাইভেট কার।
রুট:

  • গাড়ি ভাড়ার এজেন্সি অথবা হোটেলের সাথে যোগাযোগ করলে তারা মাইক্রোবাস বা প্রাইভেট কারের ব্যবস্থা করে দেয়। খাগড়াছড়ি শহরের শাপলা চত্বর এলাকার ট্যাক্সি স্ট্যান্ডেও মাইক্রোবাস বা প্রাইভেট কারের সন্ধান পাওয়া যায়।

যাতায়াতের সময়: সাধারণত প্রায় ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় প্রয়োজন হয় (ট্র্যাফিক বা যানজট এবং রুটের উপর নির্ভর করে।

ধারণ ক্ষমতা: ৪ থেকে ১২ জন (গাড়ির ধরণের উপরে নির্ভর করে) ।

ভাড়া: রিজার্ভ ভাড়া ৬,০০০ থেকে ১২,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে (গাড়ির ধরণ ও মৌসুম অনুযায়ী পরিবর্তন হয় )।

দূরত্ব: খাগড়াছড়ি থেকে চট্টগ্রামের দূরত্ব ১০০ কিলোমিটার। এবং চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারে দূরত্ব ১৪৬ কিলোমিটার।

ভ্রমণের সময়: সাধারণত গাড়ি ভাড়ার এজেন্সি অথবা ড্রাইভারের সাথে কথা বলে ইচ্ছা মতো সময় ঠিক করে নেয়া যায়।

ভ্রমণ টিপস:

  • এজেন্সি থেকে গাড়ি ভাড়া করার সময় অবশ্যই ড্রাইভিং লাইসেন্স চেক করে নিতে হবে, এবং ভাড়া ঠিক করে নিতে হবে এবং টুরিস্ট পয়েন্ট গুলো ভিজিট প্রসঙ্গ অবশ্যই আগে থেকেই নির্ধারণ করে নিতে হবে।

ঢাকা থেকে কক্সবাজার

তিনটি প্রধান এবং সুবিধাজনক উপায়েই ঢাকা থেকে কক্সবাজারে যাওয়া যায়: সড়কপথ (বাস), রেলপথ (ট্রেন) এবং আকাশপথ (বিমান)।
 
বাস (সবচেয়ে অর্থনৈতিক সাশ্রয়ী):
ঢাকা থেকে কক্সবাজার যাওয়ার সবচেয়ে সাধারণ উপায় হচ্ছে সড়ক পথ। 
 
রুট:
  • সরাসরি: ঢাকার আব্দুল্লাপুর, মালিবাগ রেল গেট, কল্যাণপুর, নর্দা, সায়দাবাদ, ফকিরাপুল, বা আরামবাগ সহ ঢাকা সিটির আরও অনেক স্থান থেকে কক্সবাজার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল বা কলাতলী এলাকার নির্দিষ্ট বাস কাউন্টারে উদ্দেশ্যে বাস ছাড়ে । কক্সবাজার বাস টার্মিনাল বা বিভিন্ন পয়েন্টে বাস থামলেও সেন্টমার্টিন ভ্রমণের উদ্যেশে  যে সকল যাত্রীরা কক্সবাজার আসেন তারা সাধারণত কক্সবাজার ডলফিন মোড় কেই বেছে নেন শেষ স্টপ হিসেবে। সেখান থেকে সবাই অটো রিকশা বা সি এন জি করে নুনিয়া ছড়া BIWTA জেটি ঘাট-এ গিয়ে জাহাজে ওঠে।
  • ভেঙে ভেঙে: ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল বা সিটি গেট অথবা জিইসি মোড়ের কাছাকাছি কোনো বাস স্টপেজ পর্যন্ত এবং পরে, চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল, চান্দগাঁও কাউন্টার, নতুন ব্রিজ কাউন্টার এবং সিনেমা প্যালেস এলাকা থেকে নিয়মিত বিরতিতে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে এস আলম, মারসা ট্রান্সপোর্ট, দেশ ট্রাভেলস, হানিফ এন্টারপ্রাইজ ইত্যাদি বাস ছেড়ে যায়।
 
পরিবহণ: গ্রিন লাইন, রয়েল কক্স সার্ভিস, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী পরিবহণ, আইকন এক্সপ্রেস, ইউরো কোচ, দোয়েল এক্সপ্রেস, ইম্পিরিয়াল এক্সপ্রেস, দেশ ট্রাভেলস, রিলাক্স পরিবহণ ইত্যাদি (এসি/নন-এসি বাস)।
 
যাতায়াতের সময়: সাধারণত প্রায় ৯ থেকে ১২ ঘণ্টা সময় প্রয়োজন হয় (ট্র্যাফিক বা যানজট এবং রুটের উপর নির্ভর করে)
 
ধারণ ক্ষমতা: টিকিটের প্রাপ্যতা বা প্রয়োজন অনুসারে । 
 
ভাড়া: ভাড়া (জনপ্রতি) ১০০০৳ থেকে শুরু করে ২৫০০৳ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে (আসন ও বাসের প্রকার ভেদে অনুসারে)।
 
দূরত্ব: প্রায় ৩৪০ কিলোমিটার।
 
ভ্রমণের সময়:
  • রুট ১: সাধারণত সকাল ৬:০০ থেকে রাত ১২:০০ টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে বাসগুলো ছেড়ে যায় এবং কক্সবাজারে বিকাল ৪:০০ থেকে পরের দিন সকাল ১০:০০ টার মধ্যে পৌঁছে যায় । আবার কক্সবাজার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল বা কলাতলী ডলফিন মোড় বা সৈকত এলাকা থেকে ঢাকা সহ চট্টগ্রাম, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, টেকনাফ এবং অন্যান্য বিভাগীয় শহরের উদ্দেশ্যে সকাল ৮:০০ থেকে রাত ১২:০০ টা পর্যন্ত বিভিন্ন সাধারণ ও বিলাসবহুল বাস ছেড়ে যায়।   
      
টিকিট: ঢাকা ও কক্সবাজার বাস কাউন্টার সমূহ।
 
রেলপথে (আরামদায়ক ও নিরাপদ):
গত ১১ নভেম্বর, ২০২৩ তারিখে কক্সবাজারের ঝিলংজায় নির্মিত আইকনিক রেলওয়ে স্টেশনটি উদ্‌বোধন  হওয়ার পরেই ১ ডিসেম্বর, ২০২৩ থেকে এ পথে ট্রেন চলা শুরু হয়। ট্রেন চলার পথে দুই পাশে দিগন্ত বিস্তৃত সবুজে ঘেরা পাহাড়, সাঙ্গু নদী, সংরক্ষিত বনাঞ্চল, বন্যপ্রাণী চলাচলের আন্ডারপাস (underpass) এবং ওভারপাস (overpass) -এর অপরূপ দৃশ্য যাত্রীদের মুগ্ধ করে। সংরক্ষিত বনের মধ্য দিয়ে চলে গেছে এ ট্রেন লাইন।
 
রুট:
  • কক্সবাজার এক্সপ্রেস (ট্রেন নং ৮১৩/৮১৪) এবং পর্যটক এক্সপ্রেস (ট্রেন নং ৮১৫/৮১৬) নামের দুটি আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ট্রেন ঢাকা ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন (কমলাপুর) বা ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন থেকে চট্টগ্রামকে সংযুক্ত করে কক্সবাজার আইকনিক রেলওয়ে স্টেশন, ঝিলংজা পর্যন্ত চলাচল করে।
 
দূরত্ব: আনুমানিক ৪২০ কিলোমিটার।
 
পরিবহন: কক্সবাজার এক্সপ্রেস (ট্রেন নং ৮১৩/৮১৪) এবং পর্যটক এক্সপ্রেস (ট্রেন নং ৮১৫/৮১৬) নামের দুটি আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ট্রেন।
 
যাতায়াতের সময়: সাধারণত প্রায় ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা প্রয়োজন হয়।
 
ধারণ ক্ষমতা: টিকিটের প্রাপ্যতা বা প্রয়োজন অনুসারে । 
 
ভাড়া: ভাড়া (জনপ্রতি) শোভন চেয়ার: ৬৯৫ টাকা; স্নিগ্ধা (AC Chair): ১৩২৫ টাকা; এসি কেবিন: ২০০০ টাকা। (আসন ও বাসের প্রকার ভেদে অনুসারে)।
 
ভ্রমণের সময়: ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে কক্স বাজারের উদ্দেশে 6.10 AM ও 11.00 PM, এবং কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম হয় ঢাকার উদ্দেশে 12.30 PM ও 7.45 PM এ ছেড়ে যায় (কক্সবাজার ও পর্যটক এক্সপ্রেস) ।    
 
টিকিট: বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (eticket.railway.gov.bd) বা রেলওয়ে স্টেশনের কাউন্টার থেকে টিকিট কিনতে
 
আকাশ পথে:
ডমেস্টিক (অভ্যন্তরীণ) এয়ারলাইন্সগুলোর মধ্যে সাধারণত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স এবং নভো এয়ার —এই তিনটি সংস্থা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করে।  
 
রুট:
  • হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ঢাকা (DAC)থেকে কক্সবাজার বিমানবন্দর (CXB)
 
দূরত্ব: প্রায় ৩০৯ কিলোমিটার। 
 
যাতায়াতের সময়: প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট।
 
ধারণ ক্ষমতা: টিকিটের প্রাপ্যতা বা প্রয়োজন অনুসারে। 
 
ভাড়া: ভাড়া (জনপ্রতি) ৪৫০০৳ থেকে শুরু করে ১৬০০০৳ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে (সময় এবং মৌসুম অনুযায়ী পরিবর্তন হয়)।
 
ভ্রমণের সময়: সকালে ও বিকালে (প্রয়োজন অনুসারে)।
 
বিমান: সাধারণত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, এয়ার অ্যাস্ট্রা এবং নভো এয়ার। 
 
যাতায়াতের সময়: প্রায় ১ থেকে ১.১৫ ঘণ্টা।
 
টিকিট: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, এয়ার অ্যাস্ট্রা এবং নভো এয়ার ওয়েব সাইট।
 
ভ্রমণ টিপস:
 
  • বুকিং : বিমানে টিকিট (৬ থেকে ৮ সপ্তাহ) আগে থেকেই অনলাইন -এ বা এজেন্টের মাধ্যমে বুকিং দিয়ে রাখা উচিত। বিমানের টিকিটের দাম ভ্রমণের দিন ও টিকিট ক্রয়ের দিনের মধ্যবর্তী ব্যবধানের উপরে নির্ভর করে থাকে
  • বোর্ডিং : ডিপার্চার টাইমে কমপক্ষে ১ ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে পৌঁছাতে হবে। ডমেস্টিক ফ্লাইট হওয়ায় NID কার্ড দিয়েই বোর্ডিং করা যায়
  • লাগেজ: সাধারণত প্রতিটি টিকিটে বা প্যাসেঞ্জার হাতে ৭ কেজি এবং চেক-ইন ব্যাগেজে ২০ কেজি বিনামূল্যে বহন করার অনুমতি পেয়ে থাকে।
  •  

সেন্টমার্টিন দ্বীপ নিয়ে যতো প্রশ্ন

প্রশ্ন ১: সেন্ট মার্টিন ভ্রমণের সেরা সময় কোনটি এবং বছর জুড়ে কি যাওয়া যায়?
উত্তর : দ্বীগন্ত বিস্তৃত, নীল জলরাশি বেষ্টিত দ্বীপ সেন্ট মার্টিন, বঙ্গোপসাগরের মাঝে এ দ্বীপে যাওয়ার এক মাত্র মাধ্যম হচ্ছে নৌ পথ। নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি, অর্থাৎ শীতকালীন সময়, বঙ্গোপসাগর এবং আবহাওয়া শান্ত থাকার কারণে বাংলাদেশ সরকারের সেন্ট মার্টিন ভ্রমণের জন্য সময় সীমা নভেম্বর থেকে জানুয়ারি নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। এই নির্দিষ্ট সময়সীমার বাহিরে সেন্ট মার্টিনে বহিরাগতদের প্রবেশ আইনত দণ্ডনীয়।

প্রশ্ন ২ : সেন্ট মার্টিন যাওয়ার উপায় কি?
উত্তর : বর্তমানে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে নাফ নদীতে নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকায় টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনগামী যাত্রীবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। এই কারণে পর্যটকদের এখন কক্সবাজার নুনিয়া ছড়া BIWTA জেটি ঘাঁটে গিয়ে জাহাজে চড়ে সেন্টমার্টিন যেতে হচ্ছে।

প্রশ্ন ৩: সময়সূচি কী? জাহাজ কখন ছাড়ে এবং কখন ফিরে আসে?
উত্তর : কক্সবাজার থেকে সকাল ৭.০০ থেকে ৭.৩০ জাহাজ ছেড়ে যায় সেন্ট মার্টিনের জন্য। আবার সেন্টমার্টিন থেকে বেলা ৩.০০ বা ৩.৩.০-এ ছেড়ে আসে। যাত্রা পথে মোটা মুটি ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা সময় লাগে (সমুদ্র ও আবহাওয়ার উপরে নির্ভর করে)।

প্রশ্ন ৪: রাতে কি দ্বীপে থাকা যায়? একদিনে গিয়ে ফিরে আসা সম্ভব, নাকি?
উত্তর : যেহেতু নুনিয়া ছড়া BIWTA জেটি ঘাঁটে থেকে সেন্টমার্টিন দ্বিপ পর্যন্ত জাহাজে যেতে প্রায় ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা সময় লাগে, তাই এখন আর কেউ দিনে গিয়ে দিনে ফিরে আসে না। সবাই অন্তত ১ রাতে সেন্টমার্টিনে কাটিয়ে পরের দিন বিকালে কক্সবাজার ফিরে আসে।

প্রশ্ন ৫: সেন্টমার্টিন যেতে বাসে কক্সবাজার গেলে কোথায় নামতে হয়?
উত্তর : বাংলাদেশের সব বিভাগ থেকেই সাধারণত সরাসরি কক্স বাজারে যাওয়া যায়। অথবা চট্টগ্রাম হয়েও কক্সবাজারে যাওয়া যায়। কক্সবাজার জেলা বাস টার্মিনাল ও সকল বাসের-ই একাধিক এবং ভিন্ন ভিন্ন কাউন্টার পয়েন্ট থাকলেও সেন্টমার্টিন গামী যাত্রীরা সাধারণত কক্সবাজার, ডলফিন মোড়ে নেমে থাকেন।

প্রশ্ন ৬: দ্বীপটি কি রাতে থাকার জন্য নিরাপদ?
উত্তর: যেহেতু চাইলেই ইচ্ছেমতো দ্বীপে ঢোকা বা বের হওয়া যায় না। এবং দ্বীপের ভিতরে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী যথেষ্ট তৎপর এবং দ্বীপের বাহিরে কোস্টগার্ড সার্বক্ষণিক ঠহলে থাকে, তাই এখন আর দ্বীপে রাত্রি যাপনে কোনো প্রকার ঝুঁকি নেই।প্রশ্ন ৭: দ্বীপে কি বার-বি-কিউ পার্টি করা যায়?
উত্তর : পরিবেশ অধিদপ্তর রাতে বিচে ঘোরাফেরা, বা-বি-কিউ, পার্টি বা কোনো প্রকার শব্দ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

প্রশ্ন ৮: দ্বীপে কি বোতল জাত খাবার পানি, স্বল্প সময় ব্যবহার উপযোগী প্রসাধনী ও স্নাক্স পাওয়া যায়?
উত্তর : দ্বীপে বার বার ব্যবহার অন উপযোগী কোন প্রকার প্লাস্টিক দ্রব্য ( ওয়ান টাইম পানির বোতল, শ্যাম্পু, মিনিপ্যাক, নিষিদ্ধ, পলিথিন, অথবা প্লাস্টিক মোড়ক জাত পণ্য) ব্যবহার, আদান প্রদান অথবা বিচে কোন প্রকার প্লাস্টিকের বর্জ্য ফেলা নিষিদ্ধ এবং আইনত দণ্ডনীয় অপরাধা। তাই দ্বীপে পানির জন্য সবাইকে সাথে নিজ নিজ পানির ফ্লাক্স বহন করতে বলা হয়েছে।

প্রশ্ন ৯: দ্বীপে প্রবেশের জন্য কি কোনো বিশেষ পাসের প্রয়োজন হয়?
উত্তর: হ্যাঁ, সেন্টমার্টিনে ভ্রমণের জন্য বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের অনুমোদিত travelpass.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে QR কোডযুক্ত ‘ট্রাভেল পাস’ । তবে এ বছর জাহাজের টিকিটের সাথেই QR কোর্ড সম্বলিত ট্রাভেল পাস দিতে দেয়া হচ্ছে।

প্রশ্ন ১০: টেকনাফ থেকে সরাসরি কি সেন্টমার্টিনে যাওয়া যাচ্ছে?
উত্তর: বর্তমানে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে নাফ নদীতে নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকায় টেকনাফ থেকে সেন্ট মার্টিনগামী যাত্রীবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। এই কারণে পর্যটকদের এখন কক্সবাজার নুনিয়া ছড়া BIWTA জেটি ঘাঁটে গিয়ে জাহাজে চড়ে সেন্টমার্টিন যেতে হচ্ছে।

প্রশ্ন ১১: ছেঁড়াদ্বীপ কি যাওয়া যাবে? যাওয়ার নিয়ম কি?
উত্তর: ছেঁড়াদ্বীপ সেন্টমার্টনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও জোয়ারের সময় এই দ্বীপে যাওয়ার রাস্তার কিছু অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। তাই এর কিছু অংশ নৌকা বা বোটে করে যেতে হয়। যদিও ছেঁড়াদ্বীপে ভাটায় পায়ে হেঁটেই পার হওয়া যায়, তবুও পরিবেশগত ঝুঁকির কারণে স্থানীয় প্রশাসন চাইলেই এতে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আনতে পারে।

Scroll to Top