সেন্টমার্টিনের জাহাজ ভাড়া, টিকেট এবং ভ্রমণ সম্পর্কিত তথ্য (২০২৫-২৬)
সেন্টমার্টিন বঙ্গপসাগরের মাঝে বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন একটি দ্বীপ হওয়ার কারণে, এ দ্বীপে যাওয়ার সরাসরি কোনো রুট নেই। এ দ্বীপে যাওয়ার একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে কক্সবাজার নুনিয়াছড়া জেটি ঘাট থেকে আনুমানিক ১২৫ থেকে ১৫০ কিলোমিটার (প্রায় ৭৭ থেকে ৯৩ মাইল) অথবা টেকনাফ দমদমিয়া জেটি ঘাট (Damdamia Jetty Ghat) থেকে ৯ থেকে ১৪ কিলোমিটার (প্রায় ৬ থেকে ৯ মাইল) নৌ পথে।
বর্তমানে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে নাফ নদীতে নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকায় টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনগামী যাত্রীবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। এই কারণে পর্যটকদের এখন কক্সবাজার থেকেই জাহাজে চড়ে সেন্টমার্টিন যেতে হচ্ছে। বর্তমানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় (Ministry of Environment, Forest and Climate Change) এখন পর্যন্ত কর্ণফুলি শিপ বিল্ডার্স লিমিটেড (Karnaphuli Ship Builders Ltd) দ্বারা পরিচালিত ২ টি জাহাজ কে এম ভি কর্ণফুলি এক্সপ্রেস এবং এম ভি বারো আউলিয়া কে কক্সবাজার সেন্টমার্টিন রুটে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে।
- এম ভি কর্ণফুলি এক্সপ্রেস: এই জাহাজটি বিলাসবহুল ভিআইপি কেবিনের সুবিধার পাশাপাশি রয়েছে কনফারেন্স রুম, এবং ডাইনিং স্পেসসহ যাত্রীদের ভ্রমণে জন্য বিভিন্ন আরামদায়ক সু-ব্যবস্থা।
- এম ভি বার আউলিয়া: এটিও এই একই কোম্পানির জাহাজ যা পর্যটকদের জন্য কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন পর্যন্ত ভ্রমণ পরিষেবা দিয়ে থাকে।
সরাসরি এদের ওয়েব সাইটের মাধ্যমে টিকিট বুকিং দিতে হয়। এবং বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত Travel Pass সাধারণত এই টিকিটের সাথেই থাকে।
সেন্টমার্টিন জাহাজ ভাড়া, টিকেট বুকিং ও অন্যান্য তথ্য (২০২৫)
এম ভি কর্ণফুলি এক্সপ্রেস :
ইকোনমি সিট (নন-এসি):
- শ্রেণী (Class):Lavender (VIP Seats)
- ডেক/অবস্থান:1st Floor
- সিঙ্গেল ট্রিপ (৳):১,৮০০
- রাউন্ড ট্রিপ (৳):৩,৫০০
- তথ্য ও সুবিধা:সিট: ৭০, ওপেন ডেক এক্সেস
——————————————————————————————————–
বিজনেস/লাক্সারি চেয়ার (এসি):
- শ্রেণী (Class):Marigold (VIP Seats) ডেক/অবস্থান:1st Floor সিঙ্গেল ট্রিপ (৳):১,৮০০ রাউন্ড ট্রিপ (৳):৩,৫০০ তথ্য ও সুবিধা:সিট: ২৯৬, প্রিমিয়াম ফুড সার্ভিস
- শ্রেণী (Class):Open Deck
- ডেক/অবস্থান:Top of the ship
- সিঙ্গেল ট্রিপ (৳):২,১০০
- রাউন্ড ট্রিপ (৳):৪,০০০
- তথ্য ও সুবিধা:সিট: ৮০, ওপেন ডেক এক্সেস
- শ্রেণী (Class):Gladiolus (VIP Seats)
- ডেক/অবস্থান:2nd Floor
- সিঙ্গেল ট্রিপ (৳):২,৬০০
- রাউন্ড ট্রিপ (৳):৫,০০০
- তথ্য ও সুবিধা:সিট: ১০৮, প্রিমিয়াম ফুড সার্ভিস
- শ্রেণী (Class):Lilac Lounge (VIP Seats)
- ডেক/অবস্থান:2nd Floor
- সিঙ্গেল ট্রিপ (৳):২,৭০০
- রাউন্ড ট্রিপ (৳):৫,৩০০
- তথ্য ও সুবিধা:সিট: ২৪, প্রিমিয়াম ফুড সার্ভিস
- শ্রেণী (Class):Chrysanthemum Lounge (VIP Seats)
- ডেক/অবস্থান:3rd Floor
- সিঙ্গেল ট্রিপ (৳):২,৯০০
- রাউন্ড ট্রিপ (৳):৫,৬০০
- তথ্য ও সুবিধা:সিট: ২৪, প্রিমিয়াম ফুড সার্ভিস
কেবিন (এসি):
- শ্রেণী (Class):Single Cabin (০১ জন)
- ডেক/অবস্থান:কেবিন
- সিঙ্গেল ট্রিপ (৳):৩,৩০০
- রাউন্ড ট্রিপ (৳):৬,৫০০
- তথ্য ও সুবিধা:সিট: ০১, পুরো জাহাজে এক্সেস, সার্ভিস
- শ্রেণী (Class):Twin Cabin (০২ জন)
- ডেক/অবস্থান:কেবিন
- সিঙ্গেল ট্রিপ (৳):৭,০০০
- রাউন্ড ট্রিপ (৳):১৩,০০০
- তথ্য ও সুবিধা:সিট: ০৬, সার্ভিস
- শ্রেণী (Class):VIP Cabin (০২ জন)
- ডেক/অবস্থান:কেবিন
- সিঙ্গেল ট্রিপ (৳):৮,৫০০
- রাউন্ড ট্রিপ (৳):১৬,০০০
- তথ্য ও সুবিধা:সিট: ০৪, সার্ভিস
- শ্রেণী (Class):VVIP Cabin (০২ জন)-
- ডেক/অবস্থান:কেবিন
- সিঙ্গেল ট্রিপ (৳):১০,৫০০
- রাউন্ড ট্রিপ (৳):২০,০০০
- তথ্য ও সুবিধা:সিট: ০৩, সার্ভিস
এম ভি বারো আউলিয়া :
- শ্রেণী (Class):Main Deck Seat
- ডেক/অবস্থান:1st – Forward
- সিঙ্গেল ট্রিপ (৳):১,৮০০
- রাউন্ড ট্রিপ (৳):৩,৫০০
- তথ্য ও সুবিধা:টোটাল সিট: ৬৬
- ডেক/অবস্থান:Sun Deck Seat
- শ্রেণী (Class):3rd – Forward
- সিঙ্গেল ট্রিপ (৳):১,৮০০
- রাউন্ড ট্রিপ (৳):৩,৫০০
- তথ্য ও সুবিধা:টোটাল সিট: ১৬০
- শ্রেণী (Class):Riviera Business Chair
- ডেক/অবস্থান:1st – Backward
- সিঙ্গেল ট্রিপ (৳):২,১০০
- রাউন্ড ট্রিপ (৳):৪,০০০
- তথ্য ও সুবিধা:টোটাল সিট: ১১৪
- শ্রেণী (Class):Panorama Business Chair
- ডেক/অবস্থান:Panorama Business Chair
- সিঙ্গেল ট্রিপ (৳):২,১০০
- রাউন্ড ট্রিপ (৳):৪,০০০
- তথ্য ও সুবিধা:টোটাল সিট: ২৭০
- শ্রেণী (Class):Mozarat Chair
- ডেক/অবস্থান:2nd – Middle
- সিঙ্গেল ট্রিপ (৳):২,২০০
- রাউন্ড ট্রিপ (৳):৪,৩০০
- তথ্য ও সুবিধা:টোটাল সিট: ৫৪
- শ্রেণী (Class):Bunker Bed (০২ জন)
- ডেক/অবস্থান:2nd – Forward
- সিঙ্গেল ট্রিপ (৳):৪,১০০
- রাউন্ড ট্রিপ (৳):৮,০০০
- তথ্য ও সুবিধা:টোটাল সিট: ০২,কমন ওয়াশরুম
- শ্রেণী (Class):Delux Cabin (০২ জন)
- ডেক/অবস্থান:2nd – Middle
- সিঙ্গেল ট্রিপ (৳):৭,০০০
- রাউন্ড ট্রিপ (৳):১৩,০০০
- তথ্য ও সুবিধা:টোটাল কেবিন: ১২
- শ্রেণী (Class):Family Bunker Cabin (০৪ জন)
- ডেক/অবস্থান:2nd – Forward
- সিঙ্গেল ট্রিপ (৳):৮,৫০০
- রাউন্ড ট্রিপ (৳):১৬,০০০
- তথ্য ও সুবিধা:টোটাল কেবিন: ০৮
- শ্রেণী (Class):VIP Cabin (০২ জন)
- ডেক/অবস্থান:3rd – Backward
- সিঙ্গেল ট্রিপ (৳):৮,৫০০
- রাউন্ড ট্রিপ (৳):১৬,০০০
- তথ্য ও সুবিধা:টোটাল কেবিন: ০৩,কমন ওয়াশরুম
- শ্রেণী (Class):VVIP Cabin (০২ জন)
- ডেক/অবস্থান:3rd – Backward
- সিঙ্গেল ট্রিপ (৳):১০,৫০০
- রাউন্ড ট্রিপ (৳):২০,০০০
- তথ্য ও সুবিধা:টোটাল কেবিন: ০২,অ্যাটাচড ওয়াশরুম
সেন্টমার্টিন দ্বীপ নিয়ে যতো প্রশ্ন
প্রশ্ন ১: সেন্ট মার্টিন ভ্রমণের সেরা সময় কোনটি এবং বছর জুড়ে কি যাওয়া যায়?
উত্তর : দ্বীগন্ত বিস্তৃত, নীল জলরাশি বেষ্টিত দ্বীপ সেন্ট মার্টিন, বঙ্গোপসাগরের মাঝে এ দ্বীপে যাওয়ার এক মাত্র মাধ্যম হচ্ছে নৌ পথ। নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি, অর্থাৎ শীতকালীন সময়, বঙ্গোপসাগর এবং আবহাওয়া শান্ত থাকার কারণে বাংলাদেশ সরকারের সেন্ট মার্টিন ভ্রমণের জন্য সময় সীমা নভেম্বর থেকে জানুয়ারি নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। এই নির্দিষ্ট সময়সীমার বাহিরে সেন্ট মার্টিনে বহিরাগতদের প্রবেশ আইনত দণ্ডনীয়।
প্রশ্ন ২ : সেন্ট মার্টিন যাওয়ার উপায় কি?
উত্তর : বর্তমানে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে নাফ নদীতে নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকায় টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনগামী যাত্রীবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। এই কারণে পর্যটকদের এখন কক্সবাজার নুনিয়া ছড়া BIWTA জেটি ঘাঁটে গিয়ে জাহাজে চড়ে সেন্টমার্টিন যেতে হচ্ছে।
প্রশ্ন ৩: সময়সূচি কী? জাহাজ কখন ছাড়ে এবং কখন ফিরে আসে?
উত্তর : কক্সবাজার থেকে সকাল ৭.০০ থেকে ৭.৩০ জাহাজ ছেড়ে যায় সেন্ট মার্টিনের জন্য। আবার সেন্টমার্টিন থেকে বেলা ৩.০০ বা ৩.৩.০-এ ছেড়ে আসে। যাত্রা পথে মোটা মুটি ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা সময় লাগে (সমুদ্র ও আবহাওয়ার উপরে নির্ভর করে)।
প্রশ্ন ৪: রাতে কি দ্বীপে থাকা যায়? একদিনে গিয়ে ফিরে আসা সম্ভব, নাকি?
উত্তর : যেহেতু নুনিয়া ছড়া BIWTA জেটি ঘাঁটে থেকে সেন্টমার্টিন দ্বিপ পর্যন্ত জাহাজে যেতে প্রায় ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা সময় লাগে, তাই এখন আর কেউ দিনে গিয়ে দিনে ফিরে আসে না। সবাই অন্তত ১ রাতে সেন্টমার্টিনে কাটিয়ে পরের দিন বিকালে কক্সবাজার ফিরে আসে।
প্রশ্ন ৫: সেন্টমার্টিন যেতে বাসে কক্সবাজার গেলে কোথায় নামতে হয়?
উত্তর : বাংলাদেশের সব বিভাগ থেকেই সাধারণত সরাসরি কক্স বাজারে যাওয়া যায়। অথবা চট্টগ্রাম হয়েও কক্সবাজারে যাওয়া যায়। কক্সবাজার জেলা বাস টার্মিনাল ও সকল বাসের-ই একাধিক এবং ভিন্ন ভিন্ন কাউন্টার পয়েন্ট থাকলেও সেন্টমার্টিন গামী যাত্রীরা সাধারণত কক্সবাজার, ডলফিন মোড়ে নেমে থাকেন।
প্রশ্ন ৬: দ্বীপটি কি রাতে থাকার জন্য নিরাপদ?
উত্তর: যেহেতু চাইলেই ইচ্ছেমতো দ্বীপে ঢোকা বা বের হওয়া যায় না। এবং দ্বীপের ভিতরে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী যথেষ্ট তৎপর এবং দ্বীপের বাহিরে কোস্টগার্ড সার্বক্ষণিক ঠহলে থাকে, তাই এখন আর দ্বীপে রাত্রি যাপনে কোনো প্রকার ঝুঁকি নেই।প্রশ্ন ৭: দ্বীপে কি বার-বি-কিউ পার্টি করা যায়?
উত্তর : পরিবেশ অধিদপ্তর রাতে বিচে ঘোরাফেরা, বা-বি-কিউ, পার্টি বা কোনো প্রকার শব্দ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।
প্রশ্ন ৮: দ্বীপে কি বোতল জাত খাবার পানি, স্বল্প সময় ব্যবহার উপযোগী প্রসাধনী ও স্নাক্স পাওয়া যায়?
উত্তর : দ্বীপে বার বার ব্যবহার অন উপযোগী কোন প্রকার প্লাস্টিক দ্রব্য ( ওয়ান টাইম পানির বোতল, শ্যাম্পু, মিনিপ্যাক, নিষিদ্ধ, পলিথিন, অথবা প্লাস্টিক মোড়ক জাত পণ্য) ব্যবহার, আদান প্রদান অথবা বিচে কোন প্রকার প্লাস্টিকের বর্জ্য ফেলা নিষিদ্ধ এবং আইনত দণ্ডনীয় অপরাধা। তাই দ্বীপে পানির জন্য সবাইকে সাথে নিজ নিজ পানির ফ্লাক্স বহন করতে বলা হয়েছে।
প্রশ্ন ৯: দ্বীপে প্রবেশের জন্য কি কোনো বিশেষ পাসের প্রয়োজন হয়?
উত্তর: হ্যাঁ, সেন্টমার্টিনে ভ্রমণের জন্য বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের অনুমোদিত travelpass.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে QR কোডযুক্ত ‘ট্রাভেল পাস’ । তবে এ বছর জাহাজের টিকিটের সাথেই QR কোর্ড সম্বলিত ট্রাভেল পাস দিতে দেয়া হচ্ছে।
প্রশ্ন ১০: টেকনাফ থেকে সরাসরি কি সেন্টমার্টিনে যাওয়া যাচ্ছে?
উত্তর: বর্তমানে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে নাফ নদীতে নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকায় টেকনাফ থেকে সেন্ট মার্টিনগামী যাত্রীবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। এই কারণে পর্যটকদের এখন কক্সবাজার নুনিয়া ছড়া BIWTA জেটি ঘাঁটে গিয়ে জাহাজে চড়ে সেন্টমার্টিন যেতে হচ্ছে।
প্রশ্ন ১১: ছেঁড়াদ্বীপ কি যাওয়া যাবে? যাওয়ার নিয়ম কি?
উত্তর: ছেঁড়াদ্বীপ সেন্টমার্টনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও জোয়ারের সময় এই দ্বীপে যাওয়ার রাস্তার কিছু অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। তাই এর কিছু অংশ নৌকা বা বোটে করে যেতে হয়। যদিও ছেঁড়াদ্বীপে ভাটায় পায়ে হেঁটেই পার হওয়া যায়, তবুও পরিবেশগত ঝুঁকির কারণে স্থানীয় প্রশাসন চাইলেই এতে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আনতে পারে।